নিজস্ব প্রতিবেদক
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্লান্টপ্যাথলজির গবেষণা মাঠে টমেটোগুলো সংগ্রহ করার পর এ চিত্র দেখা গিয়েছে ।সেখানে দেখা যায় প্রতি গাছে প্রায় ৯০ টি করে টমেটো ধরেছে।টমেটোগুলো যেমন আকারে বড় তেমনি রঙেও আকর্ষণীয়।আর খেতেও দারুণ স্বাদ।টমেটোতে ট্রাইকোডার্মার বায়োফানজাইসাইড প্রয়োগের গবেষণা শুরু হয় ২০২২ সালের জানুয়ারি মাস থেকে।
গবেষণা শুরু হয়ে এ যাবৎ তিন মৌসুমে ট্রায়াল হয়েছে।গবেষণার উদ্দেশ্য ছিল প্রাকৃতিকভাবে চাষাবাদের মাধ্যমে রোগমুক্ত টমেটো গাছে উচ্চ ফলন ফলানো। যাতে কৃষকেরা কম খরচে প্রাকৃতিক এবং পরিবেশবান্ধব উপায়ে বেশি পরিমাণ টমেটো উৎপাদন করতে পারে।কারণ ট্রাইকোডার্মার বায়োফানজাইসাইড ব্যবহার করে টমেটো চাষ করলে গাছ রোগমুক্ত থাকে এবং ফলনও বেশি পাওয়া যায়। আর কৃষকেরা হোন লাভবান। কারণ এই পদ্ধতিতে চাষাবাদের ফলে আবহাওয়া, মানুষ এবং বিভিন্ন প্রানীকূলের কোনো ক্ষতি সাধন হয় না।আর এই পদ্ধতিতে গতানুগতিক চাষাবাদ পদ্ধতির চেয়ে খরচও অনেক কম। যা দেশের কৃষিখাতকে এগিয়ে নিতে অনেক সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। গবেষণাটি সম্পন্ন করার জন্য গবেষকেরা ৬ টি ট্রিটমেন্ট করেছিলেন।
সেখানে কৃষকদের গতানুগতিক চাষাবাদ পদ্ধতি, বাজারে প্রচলিত কীটনাশক প্রয়োগের মাধ্যমে চাষাবাদ পদ্ধতি, রোগ দিয়ে চাষাবাদ পদ্ধতি, বাজারে প্রচলিত ট্রাইকোডার্মা প্রয়োগের মাধ্যমে চাষাবাদ পদ্ধতি এবং গবেষকদের উদ্ভাবিত দুটি ট্রাইকোডার্মা বায়োফানজাইসাইড প্রয়োগের মাধ্যমে চাষাবাদ পদ্ধতি ছিল। ৬ টি ট্রিটমেন্টে মধ্যে দেখা গেছে, গবেষকদের উদ্ভাবিত ট্রাইকোডার্মা বায়োফানজাইসাইড প্রয়োগকৃত ট্রিটমেন্টের গাছের শাখা,কান্ড,মূলের দৈর্ঘ্য প্রস্থ এবং উচ্চতা বেশি ছিল। গাছের স্বাস্থ্যও ছিল ভালো। অন্য ৪টি ট্রিটমেন্টের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণেরও বেশি ফলন ছিল। গাছ গণনা করে দেখা যায় প্রতি গাছে ৯০ টি করে টমেটে ধরেছে।
গবেষণার জন্য গবেষকেরা ৬ টি ট্রিটমেন্টের জন্য ভিন্ন ভিন্নভাবে বীজ এবং মাটি শোধন করে নেন।পৃথকভাবে শোধন করা মাটিতে পৃথকভাবে শোধিত বীজ বপন করেন।তারপর ট্রিটমেন্ট অনুযায়ী তারা,সার,বীষ,রোগ এবং ট্রাইকোডার্মা প্রয়োগ করেন।তারা ট্রাইকোডার্মা উদ্ভাবনের জন্য বিভিন্ন রকমের মাটি সংগ্রহ করে গবেষণাগারে আইসোলেশন করেন।
তারপর তারা ১৮ রকমের ট্রাইকোডার্মা পেয়ে থাকেন।মলিকুলার টেস্টের মাধ্যমে ১৮ টি ট্রাইকোডার্মার নাম শনাক্ত করেন।রোগ প্রয়োগের মাধ্যমে চাষাবাদ পদ্ধতির জন্য তারা বিভিন্ন ধরনের মাটিবাহিত ক্ষতিকর রোগ সংগ্রহ করে গবেষণাগারে আইসোলেশন করেন। তারপর মলিকুলার টেস্টের মাধ্যমে রোগগুলোর নাম শনাক্ত করেন।এবং ল্যাবে উদ্ভাবিত ট্রাইকোডার্মা দিয়ে মাটিবাহিত রোগ দমন হয় কিনা তার টেস্ট করা হয়। টেস্টে ইতিবাচক ফলাফল পাওয়া গেলে মাঠ পর্যায়ে গবেষণা শুরু হয়।
মাঠ পর্যায়ে দুটি ট্রাইকোডার্মার বায়োফানজাইসাইড প্রয়োগ করে দেখা যায় টমেটোর গাছে কোনো রোগ নেই আর ফলনও অন্য টিট্রমেন্টগুলোর চেয়ে বেশি। তারপর এটি কৃষকদের মাঝে সরবরাহ করা হয়।কৃষকরাও মাঠ পর্যায়ে টমেটোতে ট্রাইকোডার্মার বায়োফানজাইসাইড প্রয়োগ করে ভালো ফলন পেয়েছেন।
শুধু টমেটোতেই নয় আলু, আম এবং ব্রোকলিতেও ব্যবহার করা হয়েছে হাবিপ্রবি গবেষকদের উদ্ভাবিত ট্রাইকোডার্মার বায়োফানজাইসাইড সেখানেও একই ফলাফল দেখা গিয়েছে। রোগমুক্ত গাছে পাওয়া গেছি প্র্যতাশার চেয়েও বেশি ফলন।গবেষকরা আশা করছেন খুব দ্রুত সময়ের মাঝে তাদের উদ্ভাবিত ট্রাইকোডার্মার বায়োফানজাইসাইডের সুন্দর নাম দিয়ে প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষকদের মাঝে ছড়িয়ে দিবেন।যাতে কৃষকেরা অল্প খরচে রোগমুক্ত ফসল চাষ করে অধিকতর ফলন ফলাতে পারেন এবং লাভবান হতে পারেন। আর বাংলাদেশের কৃষিখাত যেন এগিয়ে যায়।
গবেষণার সার্বিক বিষয় নিয়ে প্লান্ট প্যাথলজি বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মো. মহিদুল হাসান বলেন, আমাদের উদ্ভাবিত ট্রাইকোডার্মার বায়োফানজাইসাইড ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষকেরা জৈবিক উপায়ে ফসলের রোগ দমন করতে পারবেন।বিশেষ করে টমেটোর ঢলে পরা রোগ (কৃষকের ভাষায় টমেটোর স্ট্রোক রোগ) দমন করতে পারবেন।