দিনাজপুরের বীরগঞ্জ পৌর শহরে শীতের বাজারে উঠতে শুরু করেছে গরমের তরমুজ। দোকানে দোকানে সাজিয়ে রাখা হয়েছে পুষ্টিজাত ফল তরমুজ। দাম নাগালের মধ্যেই। ব্যস্ত সড়কে যেতে ক্রেতাদের চোখ পড়ছে তরমুজের উপর।
বিক্রেতারাও ক্রেতাদের অবাক করে এই সময় আগাম তরমুজের বাজারজাত করেছে। কেজি প্রতি তরমুজ মানভেদে ও পরিমাণ ভেদে ৬০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সময় হিসেবে ক্রেতারা বলছে দাম সহনীয়।
ভোক্তাদের অভিযোগ, কৃষকের কাছ থেকে ব্যবসায়ীরা পিস হিসেবে কিনলেও চড়া দামে ক্রেতাদের তা কিনতে হচ্ছে কেজি দরে। এদিকে সবচেয়ে বড় অভিযোগ, এসব তরমুজের অধিকাংশই অপরিপক্ব।
তারপরও বাজারগুলোতে যে তরমুজ মিলছে, তার বেশিরভাগ পরিপক্ব নয়। কাটার পর ভেতরে লাল রং ধারণ করলেও এখনো মিষ্টতা আসেনি পুরোপুরি। ফলে এসব অপরিপক্ব তরমুজ চড়া দামে কিনে প্রতারিত হচ্ছেন ক্রেতারা। মাহে রমজান কে হাতিয়ার বানিয়ে অপরিপক্ক তরমুজ ৭০ টাকা কেজিতে বিক্রি করা হচ্ছে।
সরজমিনে উপজেলা সদরের পৌর শহরে ফলের বাজারে গিয়ে দেখা গেল আগাম জাতের তরমুজ বিক্রি করছে ক্রেতারা। মাঘ মাস শেষ না হতেই বীরগঞ্জ বাজারেগুলিতে দেখা মিলেছে তরমুজের। কিন্তু প্রকৃতিতে শীতের আমেজ থাকায় আমদানি ভাল হলেও ক্রেতা কম।
তবে বিক্রেতারা আশাবাদী যে, আগমি সপ্তাহ থেকে হয়তো গরমের আমেজ আসবে। তখন পুরোদমে তরমুজ বিক্রি হবে। পৌরশহরে প্রতিবছর তরমুজসহ অন্যান্য ফলের ব্যবসা করেন মৌসুমী ফল ব্যবসায়ী হান্নান, সুরুজ,বাচ্চু ও হাশেমসহ আরো অনেকে।
মঙ্গলবার সকালে বিজয় চত্বরে তরমুজ কিনছিলেন কলেজ শিক্ষক খাদেমুল ইসলাম। তিনি জানান, যদিও শীতের আমেজ আছে। কিন্তু আমার ছোট ছেলে বায়না ধরেছে তরমুজ কিনবে। তাই দুই কেজি ওজনের একটি তরমুজ কিনলাম। দাম সহনীয় আছে। ৬০ টাকা কেজি দরে কিনেছি। তাছাড়া তরমুজ পুষ্টিজাত ফল।
বিক্রেতা হান্নান জানান, এই তরমুজগুলি সিলেটের পাহাড়িয়া এলাকায় উৎপন্ন হয়। আমরা সৈয়দপুর মোকাম থেকে পাইকারী দরে কিনে আনি। প্রথম দিকে ক্রেতা কম হলেও বর্তমানে ক্রেতা বাড়ছে। প্রতি কেজি ৬০/৭০ টাকা দরে বিক্রি করছি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও কৃষিবিদ মো: শরিফুল ইসলাম জানান, আগাম জাতের তরমুজ ফ্রেব্রুয়ারি মাসে দেখা মেলে বীরগঞ্জ উপজেলায়। তবে পরিপক্ব কি না, সে বিষয়ে জানা নেই।