নিজস্ব প্রতিবেদক
উত্তরের জেলা দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার আলোকঝাড়ী ইউনিয়নের ভুল্লির বাজার এলাকায় ভুল্লি নদীর ওপর নির্মিত সেতু ও দুই পাশের রাস্তা ২০১৭ সালের বন্যায় ভেঙে যায়। এরপর থেকে ভাঙ্গা অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে সেতুটি। এতে পার্শ্ববর্তী নীলফামারী জেলার সদর উপজেলা ও খোকশাবাড়ী ইউনিয়ন চলাচল নিয়ে বিপাকে পড়ে স্থানীয়রা।
এই অবস্থায় ইউনিয়ন পরিষদ ও স্থানীয়দের সহায়তায় ভাঙা সেতুর পাশে প্রতি বছর বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করে চলাচল করে পথচারী, মোটর সাইকেল, চার্জার ভ্যান ও ইজিবাইক। ভারী ও মালবাহী যানবাহন চলাচল করতে না পারলেও এই পথে প্রতিদিন প্রায় ১৫-২০ হাজার মানুষ ঝুঁকি নিয়েই যাতায়াত করছে।
জানা যায়, ২০১৭ সালে সেতুটি বন্যায় ভেঙে যায়। ১৬০ ফুট দৈর্ঘ্যের সেতুটি মূলত নীলফামারী সদর ও খানসামা উপজেলার মানুষের যোগাযোগের একমাত্র ভরসা। এ সাঁকো থেকে পানিতে পড়ে মৃত্যুর ঘটনা ঘটলেও এখানে সেতু নির্মাণে কোনো উদ্যোগ নেয়নি কর্তৃপক্ষ, অভিযোগ সাধারণ মানুষের। কর্তৃপক্ষের দায়সারা জবাব মন্ত্রণালয়ে মূল্যায়নপত্র অনুমোদন হলেই সেতুর কাজ শুরু হবে।
বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ওই সেতু এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ঝুঁকি নিয়েই বাঁশের সাঁকো দিয়ে পারাপার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীরা। এতে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। উৎপাদিত কৃষি পণ্য পরিবহনে ভোগান্তি হচ্ছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভুল্লি নদীটি পঞ্চগড়ের ওপর দিয়ে বয়ে চলা করতোয়া নদীর একটি শাখা। পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলা শহরের কাছাকাছি জায়গা থেকে এর উৎপত্তি। সেখান থেকে কয়েক কিলোমিটার এগিয়ে নদীটির পূর্বতীরে নীলফামারী জেলার খোকশাবাড়ী ও পশ্চিম তীরে দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার পূর্ব বাসুলী গ্রাম অতিক্রম করে ২ জেলাকে বিভক্ত করেছে।
ওই এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা ওসমানী গনি, আফছার আলী ও ইমাম আলী প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, প্রায় ৬-৭ বছর থেকে সেতু ভেঙে পড়ে আছে। সবাই খালি আশ্বাস দেয় কিন্তু কাজের কাজ তো হচ্ছে না! এতে আমাদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। কৃষি পণ্য নির্বিঘ্নে পরিবহন করতে না পারায় ন্যায্যমূল্য বঞ্চিত হচ্ছি ও ছেলেমেয়েদের বর্ষায় স্কুল যাতায়াতে অসুবিধা হয়।
খানসামা উপজেলার আলোকঝাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান বলেন, জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে দ্রুতসময়ে সেতু নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।
খানসামা উপজেলা প্রকৌশলী শাহ মো. ওবায়দুর রহমান বলেন, টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্নের পর মন্ত্রণালয়ে মূল্যায়ন প্রস্তাব অনুমোদন হলে ভুল্লি সেতুর কাজ শুরু হবে। এরই প্রস্তুতি হিসেবে ঝুলে থাকা সেতু অপসারণের জন্য ইতিমধ্যেই নিলাম বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে।
খানসামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কামরুজ্জামান সরকার বলেন, যত দ্রুত সম্ভব সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে ভাঙা সেতু অপসারণ ও নতুন সেতু নির্মাণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে এলজিইডিকে চিঠি দেয়া হয়েছে।