*ইফতার আয়োজন নিয়ে রেষারেষি
*আহত দুইজন উপজেলা স্বাস্থ কমপ্লেক্সে ভর্তি
মাসুদ রানা
দিনাজপুরের বীরগঞ্জে জামায়াতে ইসলামীর ইফতার মাহফিলে হামলার অভিযোগ বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে। এতে জামায়াতের চারজন গুরুতর আহত। আহতের মধ্যে দুইজন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিচ্ছেন। শুক্রবার (২৮ মার্চ) উপজেলার শিবরামপুর ইউনিয়নের দেওলি বাজারের পাশে আব্দুল্লাহ মাস্টারের চাতালে এ ঘটনা ঘটে।
বিএনপির ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তুলেছেন জামায়াতের বীরগঞ্জ উপজেলা যুব বিভাগের সেক্রেটারি রেজাউল ইসলাম রিজু। তিনি বলেন, একই দিনে আমাদের ও মঞ্জু গ্রুপের(বীরগঞ্জ উপজেলা বিএনপি)ইফতার মাহফিল ছিল। ওই ইউনিয়নের জামায়াত আগে ইফতার মাহফিলের আয়োজন করে। তারা ক্ষমতার অপব্যবহার করে অতর্কিত হামলা করে। ইউনিয়ন সেক্রেটারির মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে। যুব বিভাগের আনিস ভাইকেও তারা লাঠি দিয়ে আঘাত করে। এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।
স্থানীয় আরোও জামায়াত নেতারা অভিযোগ করেছেন, প্রথমে ইফতার মাহফিলের স্থান ছিল বাজার মসজিদের সঙ্গেই। যেখানে বিএনপি এবং সুশীল সমাজের ইফতার মাহফিল হয়। কিন্তু ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মাহাবুল ও তার ভাই আসাবুদ্দিন বাধা দেন। ইফতার মাহফিল যেন করা না হয় সেজন্য জামায়াতের দায়িত্বশীলদের হুমকি দেয়। ঝামেলা এড়াতে স্থান পরিবর্তন করে অন্যত্র ইফতার মাহফিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেখানে ইফতার মাহফিলের কার্যক্রম শুরু করতেই ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মাহাবুল ও তার ভাই আসাবুদ্দিনের নেতৃত্বে জামায়াতকর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে আনিসুর রহমান আনিস ও দেলোয়ারসহ কয়েকজন গুরুতর আহত হন। তাদের বীরগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়েছে।
ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি কাজী মোহাম্মদ আব্দুর রহমান ও ওয়ার্ড কমিটির সভাপতি আব্দুল্লাহ জানান, ইফতার মাহফিলের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় বিএনপির নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়েছেন। এতে আমাদের চারজন আহত হয়েছেন।
আহতদের বিষয়ে জানতে কথা হয় বীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডাঃ অমৃত সরকারের সঙ্গে। তিনি বলেন, তারা বর্তমানে ভাল অবস্থানে আছেন। সকালে আরেকবার চেক করে যদি স্বাভাবিক থাকেন তাহলে রিলিজ দেওয়া হবে। আর যদি অবস্থা খারাপ হয় তাহলে আরো রাখতে হবে।
তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইউনিয়ন বিএনপি নেতা মাহাবুল। তিনি বলেন, কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি।
এই বিষয়ে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সহিমদ্দিন মাস্টার বলেন, আমি কিছুই জানি না। তবে মাহাবুল ইসলাম আমাদের দলীয় লোক এবং ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি। আমরা মঞ্জু গ্রুপের সদস্য।
উপজেলা বিএনপির সভাপতি মঞ্জুরুল ইসলাম মঞ্জুকে একাধিকবার মন মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে, তার ব্যবহারিত মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। জানা গেছে তিনি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন।
তবে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন ধলু বলেন, এটি সামান্য ঘটনা। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গকারীর কোনো ক্ষমা নেই।
দিনাজপুর-১ (বীরগঞ্জ-কাহারোল) আসনের জামায়াতের মনোনীত প্রার্থী মতিউর রহমান বলেন, ইফতারের প্রস্তুতি নিচ্ছিল ওই ইউনিয়নের নেতাকর্মীগণ। স্থানীয় বিএনপির উশৃংখল নেতাকর্মীরা অতর্কিতভাবে হামলা করে। এই ঘটনায় বেশ কয়েকজন আমাদের আহত হয়। আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।
বীরগঞ্জ থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল গফুর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি বলেন,
আমি লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে এটি তেমন বড় ঘটনা নয়।